Â

মল মাস কি? শ্রাবণ মল মাসে কি শিব পূজা করা যায়? মল মাস কতদিন স্থায়ী হয়? বিস্তারিত জানুন প্রতিবেদনে।

নমস্কার বন্ধুরা। সকলে কেমন আছেন? আর কিছুদিন পরে শুরু হতে চলেছে বাংলা বছরের শ্রাবণ মাস। তাৎপর্যের বিষয় হলো এবার শ্রাবণ মাস মল মাস হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। এই মল মাস কি? মল মাসে কি পুজো ও অন্যান্য শুভ কাজকর্ম করা যায়? এবছর মল মাস কবে থেকে শুরু হচ্ছে। কতদিন স্থায়ী হবে? ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেবো আজকের এই প্রতিবেদনে।

মল মাস কি?

হিন্দু শাস্ত্র ও হিন্দু পুরাণ মতে সূর্য ক্যালেন্ডার মতে ৩৫৫ দিনে এক বৎসর সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে চন্দ্র ক্যালেন্ডার মতে ৩৬৫ দিনে এক বছর সম্পন্ন হয়। এই দুই ক্যালেন্ডারের ১০ দিনের মতপার্থক্য দূর করতে প্রতি ৩ বছর অন্তর বাংলা বছরে একটি অতিরিক্ত অধিমাস যুক্ত করা হয়। এবং বছরের কোনো একটি মাস মল হয়ে থাকে। এই মল মাসের আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে মল মাসে দুটি অমাবস্যা হয়ে থাকে। এই বছর শ্রাবণ মাস মল মাস হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

এবছর মল মাস কতদিন স্থায়ী হবে?

এবছর মল মাস ইংরেজি ১৮ই জুলাই থেকে ১৬ই অগাস্ট পর্যন্ত স্থায়ী হতে চলেছে। বাংলা ১লা আষাঢ় থেকে ৩০শে শ্রাবণ পর্যন্ত মল মাস স্থায়ী হচ্ছে।

শ্রাবণ মল মাসে কি শিব পূজা করা যাবে?

হিন্দু পুরাণে কথিত আছে যে, শ্রাবণ মাস হলো মহাদেব দেবাদিদেব শিব শঙ্করের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত মাস। তাই শ্রাবণ মাস জুড়ে মহাদেবের ভক্তরা ছুটে চলেন বাবা ধাম এর উদ্দেশ্যে। যারা শিবকে আরাধ্য বলে মানেন, তারা প্রায় সকলেই এই মাসে বিশেষভাবে ত্রিলোকেশ্বর, বিশ্বেশ্বর এর আরাধনায় মগ্ন থাকেন।

shiva-puja

হিন্দু শাস্ত্রে উল্লিখিত আছে যে, মল মাসে নিষ্কাম ভাবে দেব-দেবীর পূজার্চনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ কোনো মনোবাসনা ছাড়াই এই মাসে দেবতাদের পূজা ও সেবা করা বিধির বিধেয়। তাই কেউ যদি নিষ্কাম ভাবে দেবাদিদেবের আরাধনা করতে পারেন তবে সমস্ত রকম কামনা-বাসনা থেকে মুক্তির পথে উত্তীর্ণ হবেন আপনি।

আরও পড়ুনঃ- উত্তর দিনাজপুর জেলা ও রায়গঞ্জ ব্লকে কত আসনে কোন দল জয়ী? পঞ্চায়েত নির্বাচন ২০২৩ এর ফলাফল একনজরে দেখে নিন।

মল মাসে কোন কোন কাজ করা নিষিদ্ধ?

পুরাণ মতে, যেসব কর্মের সাথে মানসিক ও শারীরিক কামনা-বাসনা জড়িত আছে, যেমন- বিবাহ, গৃহপ্রবেশ ও বাৎসরিক পূজার মতো গুরুত্বপূর্ণ শুভ কর্মাদি একেবারেই সম্পন্ন করা উচিত নয়। মল মাসে এই কাজগুলো সম্পন্ন হলে পরিবারের অকল্যাণ হয়ে থাকে। এছাড়াও মল মাসে বিবাহ ও গৃহপ্রবেশের মতো শুভকাজ সম্পন্ন করা হলে দাম্পত্য জীবনে শারিরীক ও মানসিকভাবে সুখ সমৃদ্ধি ও শান্তির সঞ্চার হয় না। বরং পরিবারে বিরাজ করে অশান্তি।

তাই মলমাসে বিবাহ, গৃহপ্রবেশ ও বাৎসরিক পূজা না করাই শ্রেয়। তবে রোজকার বা নিত্যদিনের পূজা-অনুষ্ঠান করতে কোনো দ্বিধা নেই মল মাসে।

এমন সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভান্ডার সম্বন্ধে নিত্যনতুন ও বিস্তারিত আপডেট পেতে আমাদের টেলিগ্রামগুগল নিউজ এ ফলো করুন।

Like Facebook Page